ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে কী দাওয়াই নিয়ে আসছেন অর্থমন্ত্রী
দেশকে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য সামনে রেখে আগামী (২০২৬-২৭) অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই বাজেটে একদিকে যেমন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগের ঘোষণা থাকছে, অন্যদিকে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে করজাল সম্প্রসারণ, কর ফাঁকি রোধ এবং কর প্রশাসনকে আরও কঠোর করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। আগামীকাল (১১ জুন) বৃহস্পতিবার জাতির সামনে নতুন অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী
যা আছে বাজেট পরিকল্পনায়
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ভৌত ও সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন, গবেষণা, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা নিশ্চিত করা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা, আর্থিক খাত সংস্কার ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও টেকসই উন্নয়ন অর্জন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং সৃজনশীল অর্থনীতি খাতের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে আগামী অর্থবছরের বাজেট পরিকল্পনা করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য ধরা হতে পারে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার মতো সংগ্রহের দায়িত্ব পড়বে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ওপর। এই বিপুল রাজস্ব সংগ্রহ নিশ্চিত করতে আয়কর আইন, ২০২৩-এ ব্যাপক সংশোধন আনা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে করের বাইরে থাকা বিভিন্ন খাত করের আওতায় আনা, কর পরিপালন বাড়ানো এবং ডিজিটাল অর্থনীতিকে কর কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর প্রশাসনের আওতা বাড়াতে নতুন করে ‘সহযোগী প্রতিষ্ঠান’, ‘ডেভেলপার’, ‘বেসরকারি ইনস্টিটিউট’ ও ‘মুখ্য কর্মকর্তা’র মতো সংজ্ঞা যুক্ত করা হচ্ছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ইংরেজি মাধ্যম স্কুল ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও স্পষ্টভাবে কর কাঠামোর আওতায় আনা হচ্ছে।
ডিজিটাল অর্থনীতিতেও নজর দিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশে এক লাখ বা তার বেশি ডিজিটাল গ্রাহক বা গ্রাহক সদস্য থাকলে তাকে করযোগ্য উপস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করার প্রস্তাব করা হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর কর আরোপের সুযোগ বাড়বে।

মন্তব্য করুন